অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন?


অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি ? কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন?

প্রথমত আপনাকে অনেক পড়তে হবে। কম পক্ষে ২ মাস পড়াশুনা করার পরে আপনি কাজে নামবেন। আমি যেসব পিডিএফ দিচ্ছি সেগুলো প্রিন্ট করে ২/৩ বার করে পরবেন। কোন কিছু অজানা থাকলে বা বুঝতে কষ্ট হলে প্রথমে গুগলে সার্চ করে সমাধান খুঁজার চেষ্টা করবেন। মনে রাখবেন আপনার এই ইন্টারনেট দুনিয়ায় সবচেয়ে কাছের বন্ধু হল গুগল আর ইউটিউব!

কিছু প্রিমিয়াম পিডিএফ বই:

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?

আধুনিক সময়ে অফলাইন মার্কেটিং এর থেকে অনলাইন মার্কেটিং অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাই অনলাইনে আয় করার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। সাধারণত চুক্তিভিত্তিক ভাবে কোনো কোম্পানি কিংবা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা বিক্রি করার মাধ্যমে আয় করাকেই সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়ে থাকে।

আপনাকে যদি একটা উদাহরণ দাওয়া হয় তাহলে আপনি আরও ভাল ভাবে বুঝতে পারবেন। যেমন ধরুণ, আপনার শরীরের কোনো সমস্যায় আপনি ডাক্তারের কাছে গেলেন। সাধারণত ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা করানোর জন্য আপনাকে একটা প্রেসক্রিপশন দিলেন। তবে খেয়াল করলে দেখবেন ডাক্তার এসব পরীক্ষা করানোর জন্য একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতালের নাম বলবে। আপনি যদি ডাক্তারের কথা মত ঐ ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা হাসপাতাল থেকে আপনার পরীক্ষা করান তাহলে ডাক্তার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন পেয়ে থাকে। সাধারণত ডাক্তার রোগী পাঠানোর মাধ্যমে যে টাকা আয় করলেন এই বিষয়টিকে সহজ ভাষায় অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলা হয়।

এবার মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে যদি বলতে যায় তাহলে একটা উদাহরণ দিব। যেমন – যদি আপনি কোন প্রতিষ্ঠানের অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের মার্কেটার হিসেবে নিয়োগ কৃত  হয়ে থাকেন,তাহলে আপনি কমিশন পাবেন ঠিক তখন, যখন আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভিজিটর পাঠাবেন তাদের সাইটে পণ্য কেনার জন্য এবং ক্রেতা সেই পণ্যটি কিনবে, তখন এটা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হবে। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।

কেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হবেন ?

অনলাইনে আয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান বিশ্বে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে সবচেয়ে গতিশীল, ক্রমবদ্ধমান এবং সর্ব উত্তম অনলাইন মার্কেটিং টেকনিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিছু বিষয় আছে যা জানলে আপনি খুব সহজে বুঝতে পারবেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন এতো গুরুত্বপূর্ণ এবং কেন আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হবেন। আসুন তাহলে একটু ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলি, যা আপনার বুঝতে সুবিধা হবে।

খরচ কমঃ সাধারণত অনলাইন মার্কেটিং অনেক কম খরচের কেননা এতে মার্কেটারের কোন উৎপাদন খরচ বা মান নিয়ন্ত্রন খরচ নেই। সাধারণত এর সব কিছু বিক্রেতা করে থাকেন। তবে মজার একটা কথা হল মার্কেটার এর কোন প্রকার ব্যাবসায়িক স্থান এর প্রয়োজন হয় না এবং কোন কর্মচারী নিয়োগ দিতে হয় না।

Related Articles  কীভাবে ওয়েবসাইটে ভিসিটর বৃদ্ধি করবেন

গ্লোবাল মার্কেটঃ আপনি সাধারন মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় মার্কেটিং করতে পারবেন। কিন্তু আপনি অনলাইন মার্কেটিং বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে সারা বিশ্বে মার্কেটিং করতে পারবেন।

নো ফীঃ সাধারণত অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যুক্ত হতে আপনাকে কোন প্রকার টাকা প্রদান করতে হবে না বা হয় ন।

নো স্টোরেজ নো শপিংঃ এটা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সব থেকে মজার বিষয়। কেননা আপনি এখানে মার্কেটিং করছেন কিন্ত আপনার কোন শপ নেই। আপনি চিন্তা মুক্ত থাকবেন পন্যটির ব্যাপারে,কারন পণ্যটি গুদামজাত করা,প্যাকেটজাত করা নিয়ে আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবেনা । এর সব কিছু বিক্রেতা করে থাকেন।

নো কাস্টমার সাপোর্টঃ আপনি অফলাইন এ কোন প্রোডাক্ট সেল করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে কাস্টমার সাপোর্ট দাওয়া লাগে। কিন্ত অনলাইন এ সাপোর্ট দাওয়া লাগবে না এবং কোন চুক্তিতেও আপনাকে অংশ নিতে হয় না । এটা গ্রাহকের সকল অভিযোগ এর সাপোর্ট বিক্রেতা দিয়ে থাকে আপনার পক্ষ হয়ে।

প্যাসিভ ইনকামঃ সাধাররত একটি স্বাভাবিক চাকুরিতে আপনি যতখন কাজ করবেন আপনি ততখন এর থেকে একটি আয় পাবেন। এটা আপনার মার্কেটিং দক্ষতার উপর ভিত্তি করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আপনাকে ক্রমাগত আয়ের সুযোগ করে দিতে পারে এবং এটা কখনও থামবে না। ক্রমাগত বাড়তে থাকবে। তার জন্য আপনাকে সব সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হবে এমনটি নয়।

কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ শুরু করবেন?

আপনি যদি ডিরেক্ট মার্কেটিং করতে চান, যেটা সর্টকাট অথবা যদি এমন ভাবেন আগে একটু চেষ্টা করে দেখি যদি কিছু নগদ “নারায়ণ” আসে তাহলে ভালো ভাবে শুরু করবো, তাহলে কিভাবে শুরু করবেন বলার খুব একটা কিছু নাই। একটি প্রোডাক্ট সিলেক্ট করেন, আর এর পর ট্রাফিক সেন্ড করেন সেই প্রোডাক্ট পেইজ এ। আর যদি সত্যিকার মার্কেটার এর মত কাজ করতে চান, ক্যারিয়ার করতে চান, তাহলে অবশ্যই সেলস ফানেল করে কাজ করেন। কিভাবে ও কোথা থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এ কাজ শুরু করবেন – এর জন্য আমি নিচে স্টেপ বাই স্টেপ নোট করে দিচ্ছি –

প্রস্তুতি

যদি সফল হতে চান তাহলে প্রথমেই নিজের সাথে কমিটমেন্ট করতে হবে – “যে কোন মূল্যে সফল হবোই”। সাধারণ মানুষ এর চাইতে কমিটেড মানুষ দের সাফল্য অনেক গুন বেশি। আর এই কমিটমেন্ট টি করতে হবে একদম মন থেকে, আপনাকে আপনি বলবেন – যে কোন মূল্যে আমি সফল হবোই। কমিটমেন্ট করার পর একটি প্লান করবেন – কবে থেকে কাজ শুরু করবেন, কত টাকা আপনার ইনভেস্টমেন্ট, দিনে কত ঘণ্টা কাজ করবেন, কত ঘণ্টা কাজ শিখার জন্য দিবেন, কি কি ওয়েবসাইট ফলো করবেন ইত্যাদি। কাজ সম্পর্কিত সকল কিছু একটি প্লান এর মধ্যে নিয়ে আসবেন, মনে মনে রাখলে পুরে ভুলে যাবেন, তাই সব কিছু প্রথমেই প্লান আকারে নোট করে নিবেন।

Related Articles  স্মার্টফোন গরম হলে যা করবেন

 অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম নিয়ে গবেষণা

অনেক ধরনের অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কে কাজ করা সম্ভব। তবে কাজ শুরু করার আগে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া ভালো। যেমন প্রথম অবস্থাতে সহজেই কোনো নেটওয়ার্কে কাজের অনুমতি পাওয়া যায়, কোন ধরনের পণ্যের বিবরণী আপনি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারবেন, কী ধরনের পণ্যের বিক্রি বেশি, কী ধরনের পণ্যের কমিশন বেশি, বাংলাদেশ থেকে সেই নেটওয়ার্কে কাজ করার জন্য অ্যাকাউন্ট করা যায় কি না, বাংলাদেশ থেকে পেমেন্ট তোলা যায় কি না, সর্বনিম্ন পেমেন্টের পরিমাণ কত, কত দিন পরপর পেমেন্ট তোলা যায় ইত্যাদি। পেওনিয়ারের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে টাকা তোলা সুবিধাজনক।

বিষয়বস্তু (নিশ) নির্ধারণ

আপনাকে একটি নিশ সিলেক্ট করতে হবে। এখানে খেয়াল রাখতে হবে নিশ টি যেনো কম্পিটিটিভ না হয়। বেবি স্ট্রলার, ফিশিং এগুলো সুপার কম্পিটিভ নিশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চেষ্টা করতে হবে কিছুটা আনকমন এবং কম কমপিটিশন এর নিশ খুজে বের করতে। শুরুর দিকে নিস রিসার্চেই বেশি সময় দেয়া উচিত। নিশ রিসার্চ এর সময় আমি ব্যাক্তিগত ভাবে একটি বিষয়ে প্রাধান্য দেই তা হলো,  নিশটা যেনো সিজনাল না হয়। অথ্যাৎ আপনার নিশ বা টপিক টা যদি সিজনাল হয় তাহলে আপনি বছরের  একটা নিদৃষ্ট সময়ই সাইট থেকে ভালো ইনকাম করতে পারবেন।  উদাহরনস্বরুপ বলা যেতে পারে হাইকিং নিশের কথা। এটি একটি সিজনাল নিশ, এমেরিকান রা গ্রীষ্মে হাইকিং করে। তাই শীতে এ ধরনের প্রোডাক্ট কম সেল হয়। তারপর ও যদি আপনি কনফিডেন্ট থাকেন এই সময়ের মধ্যেই আপনি সাইটের আর্নি বের করে আনতে পারবেন তাহলে কাজ করা যেতে পারে।

মার্কেট সিলেকশন

নিস সিলেক্ট করার পড় সিলেক্ট করবেন মার্কেটপ্লেস। একসাথে অনেক গুলো মার্কেট এ কাজ করার চাইতে যে কোন একটায় কাজ শুরু করা ভালো। এতে আপনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। অনেক গুলো মার্কেটপ্লেস আছে তবে শুরু করার জন্য ভালো হচ্ছে ClickBank.com অথবা Jvzoo.com. এছাড়া অন্য কিছু মার্কেটপ্লেস হচ্ছে ClickSure.com, ClickBetter.com, PayDot.com, VIPAffiliates.com, TwistDigital.com, LinkShare.com, Cj.com, Payspree.com ইত্যাদি। যেই মার্কেট এ কাজ করবেন সেই মার্কেটপ্লেস এর অফিসিয়াল YouTube চ্যানেল এ অনেক টিপস / how to ভিডিও পাবেন ওগুলো দেখে নিলে অনেক উপকার পাবেন।

ওয়েবসাইট তৈরি করুন

একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কাজ করার জন্য আপনার নিজস্ব একটা প্ল্যাটফর্ম প্রয়োজন ( নিজস্ব ওয়েবসাইট বা ব্লগ) যেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ করা পণ্য বা সার্ভিসের লিংক পোস্ট এবং অ্যাডভারটাইজ করতে পারবেন। আপনার যদি ইতোমধ্যেই একটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ থেকে থাকে তাহলে সেই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে একজন অ্যফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে অতিরিক্ত আয় শুরু করতে পারেন। আর যদি না থাকে তাহলে তৈরি করতে হবে।

  • ব্লগ এর সুবিধা হচ্ছে এটা ফ্রি অপারেট করা যায়। যেখানে কিছু ওয়েবসাইট ফি চেয়ে থাকে। যাইহোক, GoDaddy.com এবং  Hostgator জাতীয় সাইটগুলো তুলনামূলক ভাবে স্বল্প মূল্য রাখে।
  • একজন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার হিসেবে কোন কোম্পানিতে যোগদান করতে চাইলে সেই কোম্পানি নির্বাচন করা উচিত যারা অনলাইন মার্কেটিংয়ে বিশেষজ্ঞ। MoreNiche এর মতো কোম্পানিগুলো  অ্যাফিলিয়েট মার্কেটারদের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজের পণ্য বা সার্ভিসের অ্যাডভারটাইজ করার প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সহায়তা করে।
  • নিজের ওয়েবসাইট না থাকলেও এমন কিছু ওয়েবসাইট আপনি পাবেন যেগুলো আপনাকে পে-পার-ক্লিক হিসেবে কমিশন দিবে। এক্ষেত্রে আপনি পণ্যের বিজ্ঞাপন লিংক নিজের ওয়েবসাইটে পোস্ট না করে ফেসবুকে পোস্ট করলে কেউ যদি সেটা ক্লিক করে তার ওপর আপনাকে পার্সেন্টেজ দেয়া হবে।  Associate Programs, Affiliates Directory, E-commerce Guide এবং Link Share অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্কগুলো  এ ধরনের সুযোগ দিয়ে থাকে।
Related Articles  Google apps & Google services

চমৎকার কনটেন্ট তৈরি করা

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। ক্রেতাদের আস্থা পেতে ধারাবাহিকভাবে স্বতন্ত্র ও উন্নত মানের কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। কনটেন্টে ভালো মানের ছবি ব্যবহার করতে হবে। অ্যাফিলিয়েট লিংক তৈরি করে তা ছবি ও টেক্সটের মধ্যে যুক্ত করতে হবে। পণ্যের রিভিউ করলে অবশ্যই সততার সঙ্গে করতে হবে। নির্দিষ্ট পণ্যের ভালো দিকগুলো তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে খারাপ দিক থাকলে তা–ও উল্লেখ করতে হবে। এতে কনটেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। অন্যান্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটার একই পণ্যের রিভিউ কীভাবে করেছে, তা যাচাই করে আরও বিস্তারিত ও আকর্ষণীয়ভাবে কনটেন্ট তৈরি করতে হবে।

 কনটেন্ট প্রমোশন

ওয়েবসাইট তৈরির পর প্রথমেই গুগল সার্চে র‌্যাংক করা সম্ভব না–ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কনটেন্ট বিভিন্নভাবে প্রমোশন করা যেতে পারে। যেমন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা, গুগল, ফেসবুক ও অন্যান্য ডিজিটাল মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া, ই–মেইল মার্কেটিং করা, এসইও জোরদার করা ইত্যাদি।

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে আরও বিশদ জানতে ভিডিওগুলো দেখতে পারেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *