করোনার ভয়াবহতা আরোও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই


বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি

প্রতি শুক্রবারই সাধারনত আমি বাসায় যাই কিন্তু এই শুক্রবার কিছু কেনা কাটা থাকার কারনে আর বাসায় যাই নাই৷

যেহেতু কেনাকাটা করার জন্য বাসায় যাই নাই সেহেতু কেনাকাটার জন্য শুক্রবার সকালে কাওরানবাজার গেলাম।

কাওরানবাজার গিয়ে আমি রীতিমতো অবাক। বাজারে মানুষের আনাগোনা বা মানুষের ভাব ভঙ্গি দেখে একবারের জন্য আমার মনে হয় নাই বাংলাদেশ করোনা নামক এক ভয়ানক মহামারির সঙ্গে লড়াই করছে।

কিছু সচেতন মানুষ যারা সাধারনত ছুটির দিনে বাজার করতে যায় তারা কিছুটা সর্তক থাকলেও তার কোন সুফল পাবে বলে মনে হয় না।

কারন তারা মাস্ক ব্যবহার করলেও বাজারে যে পরিমান লোক তার মধ্যে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

এত তো গেল সচেতন কিছু ক্রেতা বা নাগরিকের কথা কিন্তু যারা বিক্রেতা বা বিভিন্ন জেলা থেকে পন্য নিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে কোন রকম সর্তকতা লক্ষ্য করা যায় নাই৷

বরং কিছু আড়ৎদার বা যারা বিভিন্ন জেলা থেকে পন্য বহন করে এনেছে তারা এক জায়গায় একত্রিত হয়ে টাকার ভাগ বাটোয়ারা করছে সেখানে সামাজিক দূরত্ব তো দূরে থাক মুখে মাস্ক লাগানোর প্রয়োজনীয়তাটুকু মনে করে নাই।

আমি পাশের একজন দোকান মালিককে জিঞ্জাসা করলাম যে এরা এমন একত্রিত হয়েছে বাজার মালিক সমিতি কি এগুলো দেখে না?

তার উত্তরটা শুনে আমি একটু অবাক হলাম আঞ্চলিক ভাষায় বললে একটু ভড়কে গেলাম। করোনা নাকি গরীবের জন্য না যারা বেশি সর্তক করোনা নাকি তাদের হয়৷

এরকম উত্তর শোনার জন্য হয়তো আমি বা আপনি কেউই প্রস্তুত নয়।

এখানেই শেষ নয়। হাতির ঝিল সন্নিকটে থাকার কারনে বিকেলের দিকে আমি আর আমার রুমমেট হাঁটতে হাঁটতে হাতির ঝিলের দিকে যাই।

সাধারনত ঢাকার মানুষের বিনোদনের বা রিফ্রেশমেন্টের অন্যতম একটি জায়গা হাতির ঝিল সারা সপ্তাহ ব্যস্ত থাকার পর একটু প্রশান্তির খোঁজে অনেক মানুষই হাতির ঝিল আসে।

এই গল্পটা ছিল করোনার পূর্বের আমিও করোনার পূর্বে প্রায়ই যেতাম। অনেক লোকের সমাগমে কিছুটা বিরক্ত লাগলেও মুক্ত বাতাসে খুব একটা খারাপও লাগতো না।

করোনা পরবর্তী প্রায় ৩ মাস পর গতকাল হাতির ঝিল গেলাম ধারনা ছিল খুব বেশি লোক হয়তো ঝিলে থাকবে না কিন্তু আমার সেই ধারনা সম্পূর্ণ ভুল ছিল কারন ঢাকার কোন অংশ যদি তার চিরচেনা রূপে ফিরে থাকে তাহলে সেইটা হাতির ঝিল।

আমার তো মনে হয়েছে লোক আগের থেকে অনেক বেশি এবং তাদের চলাফেরা দেখে আপনার কখনো মনে হবে না যে দেশে এত ভয়াবহ মহামারি চলছে৷

মাস্ক সকলের মুখেই মোটামুটি আছে কিন্তু প্রায় সবাই সেটি মুখ থেকে নিচে নামিয়ে রেখেছে।

ছোট ছোট বন্ধুদের ঝটলা, প্রেমিক প্রেমিকার এক সঙ্গে বসে থাকা বা পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা সবই আগের মতই আছে হাতির ঝিলে। এখন তো আবার মোবাইলে লুডু খেলা বেশ জনপ্রিয়।

কাওরান বাজার বা হাতির উভয় জায়গায় এইভাবে চারজন একত্রিত হয়ে লুডু খেলার দৃশ্য দেখা গেছে৷ কোথাও প্রসাশনের কোন তৎপরতা পরিলক্ষিত হয় নাই।

Related Articles  আজ পবিত্র ঈদুল-ফিতর

আমার তো মনে হয় চারটার পর ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা-বানিজ্য বন্ধ করে বউ বাচ্চা নিয়ে বিনোদন স্পটগুলোতে ঘুরতে চলে যায়৷

আশা করি এই সকল বিষয়ে সরকার বা প্রসাশনের দৃষ্টি পড়বে সত্যি কথা বলতে আমি বা আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই তাহলে সরকারের একার পক্ষে এই মহামারি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

Visit our English website http://www.asifsdairy.xyz





Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *