বাংলাদেশের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ , লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

বাংলাদেশের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা 

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হলো।

এর আগে গতকাল জুয়েল নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় মোট ৪০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাদের সবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দগ্ধ।

নিহতদের মধ্যে নয়জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন- রিফাত, হুমায়ুন কবির, মুস্তফা কামাল, জামাল, জুনায়েদ, জুয়েল, ইব্রাহিম, দোলোয়ার হোসেন, কুদ্দুস ব্যাপারী।

নেই বিদ্যুৎ সংযোগ, তবুও বিল লক্ষাধিক টাকা!

বার্ন ইউনিটের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন, দগ্ধদের মধ্যে মোট ১১ জনের মৃত্য হয়েছে। তাদের বয়স ৭ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। দগ্ধ অন্যদের সবার অবস্থাও শঙ্কাজনক। তাদের শরীরের ৯০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে।

এর আগে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দগ্ধদের সবার শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদের এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৪০ জন আহত হন। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে জাতীয় শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ১১জনের মৃত্যু হলো।

মসজিদে বিস্ফোরণ এসি নয়, গ্যাস লাইন থেকে ঘটেছে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ কথা জানান তিনি।

আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, মসজিদের নিচ দিয়ে (মেঝেতে) একটি গ্যাস পাইপ রয়েছে। আর এ পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদের ভেতর গ্যাস জমা হয়। মসজিদে এসি চলার কারণে দরজা জানালা সব বন্ধ রাখা হয়। আলো বাতাস বের হতে পারে না। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুতের কোনো কিছু জালানোর সময় স্পার্কিং করে। আর সেই স্পার্কিং থেকে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

Related Articles  ৪৯ টাকা মোবাইল রিচার্জ ও ২ জিবি ফ্রি ইন্টারনেট অফার।

কী ঘটেছিল ওই মসজিদে

শুক্রবার রাতে এশার নামাজ চলার মধ্যেই মসজিদের নিচতলায় দেড় টনের এসিগুলো বিস্ফোরিত হয়ে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের অন্তত ৩০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিসের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মসজিদের ফ্লোরের নিচ দিয়ে একটি গ্যাসের লাইন গেছে। সেই লাইন থেকে গ্যাস লিক হয়ে বদ্ধ মসজিদের ভেতরে জমা হয়। এসি থাকায় পুরো মসজিদ বন্ধ ছিল। লিক হওয়া গ্যাস বের হতে পারেনি। তাছাড়া এসিতেও গ্যাস থাকে।

“সুইচ অন বা অফ করার সময় কোথাও বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হয়েছে। গ্যাস উপরের দিকে থাকায় এসিগুলো বিস্ফোরিত হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।”

বাংলাদেশের মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণ

এরপরেও ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “তারা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখবেন। গ্যাস যে ফ্লোর থেকে লিক হচ্ছে তার বড় প্রমাণ আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের দেওয়া পানির মধ্যে ফ্লোরে গ্যাস বুদবুদ করছে।”

তার সঙ্গে একমত জানিয়ে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল দেখে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, গ্যাসের কারণেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

“তারপরেও আমরা সব বিষয় মাথায় রেখে সিআইডি ক্রাইম সিনের সদস্যদের ডেকেছি। তারা আলামত সংগ্রহ করছে। পাশাপাশি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ বা ঘটনা আছে কি না।”

 

তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাসের লাইন বন্ধসহ প্রয়োজনীয় কাজ করেছে। মসজিদের বিদ্যুৎ লাইনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাড়তি পুলিশ প্রহরা বসানো হয়েছে।

Related Articles  বাগদানের আংটি দেখালেন কাজল

দগ্ধদের মধ্যে ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *