কবে মানবতা আসবে ? পরিবর্তন হবে মানসিকতা


এই মৃত্যুর মিছিলে আমি আপনি এখনো বেঁচে আছি এইটা কিন্তু কম নয়। কিন্তু এই বেঁচে থাকার মাঝে আমরা কি করছি তার কি কোন হিসাব আছে?

আরও পড়ুন- করোনার ভয়াবহতা আরোও বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু নেই

আচ্ছা এই করোনা ভাইরাস কি আমাদের মধ্যে কোন ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে?  করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কি আমাদের মানবতা পরিবর্তন করতে পেরেছে?

করোনা যখন প্রথম শুরু হয় তখন কিছু মানুষ বলতো এইটা নাকি আল্লাহর গজব, এইবার যদি মানুষের শিক্ষা হয়। শিক্ষিত ছেলে হিসাবে গজব এই কথাটায় একটু আপত্তি থাকলেও মানুষের পরিবর্তন হওয়ার কথাটা শুনে খুশি লাগতো।

মনে মনে ভাবতাম এইবার বুঝি ধনী গরিব বৈষম্য কিছুটা হলেও লাঘব হবে। এইবার বুঝি মানুষ মৃত্যু ভয়ে অসৎ কাজ বা দুর্নীতি থেকে সরে আসবে।

সত্যি কথা বলতে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলাম করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক সমস্যা কিছুটা থাকলেও মানুষের মানসিকতার কিছুটা পরিবর্তন হবে।

কিন্তু করোনার তিনমাস পর এসে দেখলাম স্বপ্ন আসলে স্বপ্নই হয়। ধনী গরিব বৈষম্য কমা তো দূরে থাক যেন বড়লোকরা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অর্থ সঞ্চয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে।  করোনায় তারা মারা গেলেও যেন তাদের পরবর্তী প্রজন্মের কষ্ট না হয়।

বছরের পর বছর যখন এদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের সস্তা শ্রম কাজে লাগিয়ে দেশ বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের লাভের টাকা জমা করে তখন কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা ঠিকই পায় না  কিন্তু যখনই কোন কারনে প্রতিষ্ঠান এক সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আসে তখনই শ্রমিক ছাটাঁই বা শ্রমিকের বেতন কর্তন শুরু করে।

যেন শ্রমিকের বেতন দেওয়াটাই তার প্রধান লসের কারন। যাই হোক অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান ও আছে৷

আচ্ছা আপনাদের এত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আপনারা কি পারেন না। আপনাদের শ্রমিকদের দুই-তিন মাস চালিয়ে নিতে ঠিকই পারেন কিন্তু আপনারা আপনাদের গচ্ছিত অর্থ ব্যয় করবেন না। কারন আপনারা ভালো করেই জানেন এদেশের দরিদ্র মানুষেরা আপনাদের কাছে জিম্মি।

Related Articles  সকল পুরুষকে ধর্ষকের সারিতে আনবেন না

তাদের দরিদ্রতা আর অসহায়ত্বের সুযোগটা আপনারা কাজে লাগিয়ে টাকার পাহাড় জমিয়ে তুলেছেন কিন্তু পরিশ্রম না করলে এক টাকাও আপনারা তাদের দিতে রাজি নন।

একটু খেয়াল করে দেখবেন এই করোনা কালীন সময়ে কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতিও কোন অংশে লাঘব পায় নাই৷ বরং এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে অনেক কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাতের ফন্দি ফিকির করেছে৷

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথাই ধরেন এক মাসে ডাক্তারদের খাওয়া থাকা খরচ ২০ কোটি টাকা। আচ্ছা এই সব বিল যাদের মাধ্যমে অ্যাপরুভ হয়ে আসে তারা কি এইসব দেখে না?

নাকি শস্যের মধ্যে ভূত আছে?

সংসদে মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ২০ কোটি খরচের ব্যাখ্যা দেন ৩৭ জন ডাক্তার নাকি ৫০ টা হোটেলে থাকায় খরচের পরিমাণ এত বেশি৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে আমার আঞ্চলিক একটা কথা মনে পড়ে গেল

চোরের স্বাক্ষী মাতব্বর

এই ভয়াবহতার পরও যদি আমাদের বিবেক জাগ্রত না হয় তাহলে হয়তো আর কখনই হবে না৷

শেষটা মান্না দা দুইটা গানের লাইন দিয়ে শেষ করতে চাই

” মানুষ মানুষের জন্য
একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না “

লেখক
আর কে আসিফ খান
এডমিন
www.newsinallday.info

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *