ইংরেজি ভীতি দূর করার উপায়


ইংরেজি যেহেতু আন্তর্জাতিক ভাষা, তাই  ইচ্ছায় অনিচ্ছায় অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের এ ভাষার দ্বারস্থ হতে হয়। কিন্তু দ্বিতীয় ভাষা বলে একটি অস্বস্থি এবং ব্যবহারভীতিতে আমরা ইংরেজি ভাষাকে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি। ফলশ্রুতিতে আমাদের ভীতির কারণে দক্ষতা অর্জন পিছিয়ে যায়। এতে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই অসুবিধার শিকার হই। চলুন জেনে নেই এক কথায় কিভাবে আমরা ইংরেজির ভীতি দূর করতে পারি তার ১৫ টি উপায়ঃ

১। নিয়মিত ইংরেজি ভাষার ম্যুভি দেখুন। এটি আপনাকে নেটিভ উচ্চারণ শিখতে সাহায্য করবে। এছাড়াও স্কুল কলেজে পঠিত ব্যাকরণের সাথে কথ্য ইংরেজির পার্থক্য বুঝতে পারবেন সহজেই।

২। ইংরেজি পত্রিকা বা ম্যাগাজিন পড়ুন। এছাড়াও দ্রুত পঠনের জন্য পাঠ্য বইগুলো পড়তে পারেন। নতুন শব্দগুলো টুকে রাখুন যাতে পড়ে ভুলে গেলেন কিনা যাচাই করতে পারেন।

৩। প্রতিদিনই যা শিখছেন তা চর্চার মধ্যে রাখুন। কেননা, চর্চার ভেতর না থাকলে আপনার অধীন জ্ঞান একসময় বিস্মৃত হয়ে যাবে।

৪। বলার ক্ষেত্রে ভুল, ভয় এবং লজ্জাকে ইগনৌর করুন। বিদেশি ভাষায় ভুল কম বেশি সবারই হবে। এবার লেখার জন্যে, বোর্ড বই দেখে দেখে অনুশীলন করুন। একটা প্যাসেজ পড়ে, নিজে সামারি লিখুনl

৫। ফেসবুকে চ্যাট ইংরেজিতে করুন। কমেন্টসও করতে পারেন। ভুল হতে হতেই ঠিক হবে। হাঁটা শেখতে গেলে, আছাড় খেয়ে খেয়েই শেখতে হয়।

৬। পরীক্ষা গুলোর জন্য নিয়মিত অনুবাদ অনুশীলনের সময়েই নতুন শব্দ আর গ্রামার খেয়াল করুন।

৭। কমন মিসটেকস ইন ইংলিশ, কয়েক দিন পর পর পড়তে পারেন।

৮। ২/৩ জন বন্ধু মিলে একটা টপিকস ঠিক করে, ১০ মিনিট করে লিখুন। এরপর একজনের ভুল অন্যজন খুঁজে বের করুন। ধীরে ধীরে ইংরেজির ভয় দূর হবে, আশা করছি।

Related Articles  হাতের লেখা ভালো করার উপায় বা কৌশল

৯। ইংরেজ বক্তাদের কথা শুনুন। কিচ্ছু বুঝেন নাহ? সমস্যা নাই, শুনতে থাকেন। মনে করেন ২ বছরের বাচ্চা হাওমাও কইরা কথা বলা শিখতেছে। শুনতে শুনতে নিজেই বোঝা শুরু করবেন। যেমন একজন মা তার সন্তানের আধো আধো কথাই পুরো বুঝতে পারেন অন্য কেও বুঝতে না পারলেও।

১০। বন্ধু, বান্ধবী, বাবা-মা, শিক্ষক, আত্মীয়, অচেনা পথিক, ছোট ভাই, বড় ভাই সবার থেকে নির্দ্বিধায় সাহায্য নিন। যেকোনো সমস্যায় তাদের প্রশ্ন করুন। (অবশ্যই যে ইংরেজি তে ভাল তাকে প্রশ্ন করবেন, নয়তো অনন্ত জলিল হয়ে যেতে পারেন)

আরও পড়ুন অঙ্কে ভয় ? সন্তানের অংকের ভয় কিভাবে দূর করবেন ?

১১। দল বেঁধে চর্চা করুন । ভাষা শেখার আরেকটি ভালো পদ্ধতি হলো বন্ধুরা মিলে একসঙ্গে চর্চা করা, যাকে বলা হয় ‘গ্রুপ স্টাডি’। অন্যান্য বিষয় পড়ার ক্ষেত্রে গ্রুপ স্টাডি যেমন কার্যকর, তেমনি ভাষা শেখার ক্ষেত্রেও গ্রুপ স্টাডি কাজে আসে। কারণ এর মধ্য দিয়ে যেমন নিজের ভুলটা সহজে ধরা পরে। আবার নিজে না পারলে বন্ধুর সহযোগিতা নেওয়ার সুযোগটা থাকে।

১২। শিক্ষক যখন ইউটিউব। এখন ইউটিউবে প্রচুর ইংরেজি শেখার ‘টিউটোরিয়াল’ পাওয়া যায়। তাই চাইলে শিক্ষার্থীরা ইউটিউব দেখে ইংরেজি শিখতে পারেন। শুধু স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, শিশু থেকে শুরু করে যেকোনো পর্যায়ের শিক্ষার্থী বা যে কেউ ইংরেজি শেখার জন্য ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেল ব্যবহার করতে পারেন।

 ১৩। স্মার্টফোনে অভিধান রাখুন । বর্তমানে অধিকাংশ তরুণের হাতে স্মার্টফোন আছে। চাইলেই একটি অভিধানের অ্যাপ আপনার স্মার্টফোনে ইনস্টল করে নিতে পারেন। এর মাধ্যমে প্রতিদিন নতুন নতুন শব্দ শেখা হবে। পড়তে বসে হয়তো কোনো একটি শব্দের অর্থ বুঝতে পারছেন না, চট করে অভিধানে শব্দটি দেখে নিন। প্রযুক্তির এই সুবিধা তো আমরা কাজে লাগাতেই পারি।

১৪। নিজের কথা রেকর্ড করুন স্মার্টফোনে! আপনার মস্তিষ্ক ঠিকই জানে কোন পরিস্থিতি এবং ভাব(Mood) অনুযায়ী কথার টোন ও উচ্চারণ কেমন হওয়া চাই। তবে বাস্তবে বলার সময় আসলেই তা হচ্ছে কি না, তা পরখ করতেই আপনার স্মার্টফোনই হতে পারে আপনার সহায়।

Related Articles  এস এস সি রেজাল্ট ২০২০ কীভাবে দ্রুত পাবেন ?

ইংরেজি একটি বই/পত্রিকা নিন, সেটি পড়ুন, রেকর্ড করুন এবং নিজেই যাচাই করুন আপনার উচ্চারণ এবং টোন। প্রয়োজনে রেকর্ডিংটি একজন বন্ধুকে শুনিয়ে নিন এবং জেনে নিন আপনার ভুলগুলো।

১৫ । প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স । এরপরেও যদি আপনার মনে হয় যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কোর্স করে আপনি উপকৃত হবেন, তবে চলে আসতে পারেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ইন্সিটিউটে। এখানে মোট ১২০ ঘণ্টার ক্লাস করে ইংরেজির উপর একটি নন-ডিগ্রি কোর্স করে নিতে পারেন।

তথ্যসূত্র – টেন মিনিট স্কুল ,প্রথম আলো , মিডিয়াম.কম. নিউজ লাইন বিডি.কম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *