অবসাদ বা হতাশা গ্রস্থ কিনা আপনি,বলে দেবে এই লক্ষণগুলি


এই লক্ষণগুলি বলে দেবে আপনি অবসাদ বা হতাশা গ্রস্থ

মানসিক সমস্যা নিয়ে মুখ বুজে থাকলে আত্মহনন দিয়ে তাঁর খেসারত দিতে হতে পারে ৷ কিন্তু আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যে মানসিক অবসাদে ভুগছেন না, তা কীভাবে বুঝবেন ?

এ দেশে হয়তো এমন অসংখ্য মানুষ আছেন, যাঁরা মানসিক অবসাদে ভুগলেও তা ধরাই পড়ে না ৷ নিজেদের মানসিক যন্ত্রণা, হতাশার কথা অনেকে মুখ ফুটে বলতেই পারেন না ৷ চিকিৎসা করা বা কাউন্সেলিং শুরু করার সুযোগই আসে না তাঁদের সামনে ৷

আরও পড়ুন- আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়

চিকিৎসকরা বলছেন, অনেকের মধ্যেই আত্মহত্যার প্রবণতা বা লক্ষণ দেখা যায় ৷ কিন্তু অনেকেই থাকেন যাঁদের মধ্যে এরকম কোনও লক্ষণই দেখা যায় না ৷

মনোবিদরা বলছেন, জীবনে যেকোনও ক্ষেত্রে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া, ব্যক্তিগত বা আর্থিক ক্ষেত্রে কোনও বিপর্যয়, সমাজ বা বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, সঙ্গীর মৃত্যু বা বিচ্ছেদ- এমন নানা হতাশা থেকেই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার প্রবণতা জাগতে পারে যে কোনও কারও মধ্যেই৷ করোনা অতিমারির জেরে সেই প্রবণতা আরও বেড়েছে ৷

কিন্তু অবসাদ ঠিক কী? মনোবিদদের মতে, একটা দিন খারাপ গেলে হতাশ হয়ে পড়াটাই অবসাদ নয়৷ এটা তার থেকে অনেক জটিল৷ ক্রমাগত মনের মধ্যে জমাট বাঁধতে থাকা হতাশা, দুঃখ, দৈনন্দিন জীবনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলা, যা বেঁচে থাকাটাই কঠিন করে তোলে ৷ অবসাদগ্রস্তদের মধ্যে সবসময় আত্মহত্যার প্রবণতা থাকে ৷ আমাদের চারপাশে থাকা মানুষের দিকে একটু খেয়াল রাখলেই হয়তো এই ধরনের প্রবণতা কারও কারও মধ্যে চোখে পড়বে ।

আরও পড়ুন- কীভাবে মানসিক উন্নতি ঘটাবে?

মনোবিদরা বলেন, ‘সব মানুষের মধ্যেই অবসাদ বা হতাশা থাকে ৷ কারও ক্ষেত্রে কম, কারও বেশি ৷ কেউ কেউ এটাকে সামলে উঠতে পারেন, কিন্তু অনেকেই তা পারেন না ৷’

Related Articles  শুধু ব্যবহার করলেই হবে না, মাস্ক-গ্লাভস নিয়ে এই সব নিয়ম না মানলে কিন্তু বড় বিপদ

মনোবিদরা আরও জানিয়েছেন, অবসাদ দু’ রকমের হয়- Primary এবং Secondary ৷ প্রথমটির ক্ষেত্রে কোনও কারণ ছাড়াই কাউকে অবসাদ গ্রাস করতে পারে ৷ কিন্তু দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে অবসাদের নির্দিষ্ট কারণ থাকে ৷

জীবনের প্রতি নেতিবাচক ভাবনাচিন্তা চলে আসাই অবসাদের প্রথম লক্ষণ ৷ নিজের বা পরিবারের কারও জীবনে খারাপ কিছু ঘটলেই অবসাদগ্রস্তরা নিজেদের দায়ী করতে শুরু করেন৷ সবকিছুতেই আগ্রহ হারিয়ে যায় ৷ এমন কি শখ, প্রিয় খেলাধুলোতেও আগ্রহ থাকে না ৷

মনোবিদরা জানিয়েছেন, অবসাদের জেরে অনেকেরই ঘুম কমে যায়, সারাদিন তাঁরা খিটখিটে হয়ে থাকেন ৷ আবার এর উল্টোটাও কিছু ক্ষেত্রে হয় ৷ অবসাদ খেকে ক্লান্তি গ্রাস করে, যা থেকে অতিরিক্ত ঘুমনোর প্রবণতা তৈরি হয় ৷ অবসাদগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষিদেও কমে যায়, যার ফলে এক ধাক্কায় ওজন হ্রাস পায় ৷

অবসাদগ্রস্তরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন না ৷ মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের মেজাজ বদলে যেতে পারে ৷

মনোবিদদের মতে, এই সময় অনেকেই নিজেকে একা সরিয়ে নেন৷ সবসময় তাঁদের কান্না কান্না পায়৷ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন অবসাদগ্রস্তরা৷ মোটিভেশন হারিয়ে ফেলেন৷ তিন মাসের বেশি এই লক্ষণগুলি কারও মধ্যে স্থায়ী হলেই তাঁর অবিলম্বে চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মনোবিদ বিশেষঞ্জ ৷ না হলে অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তির মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিতে পারে৷

আরও পড়ুন- ই-কমার্স কি? কিভাবে ই–কমার্স ব্যবসা শুরু করবেন

কারও মধ্যে এই প্রবণতাগুলি দেখলে তাঁদের বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সতর্ক করুন৷ কোনওমতেই এই ধরনের মানুষকে একা ছাড়বেন না৷ মনে রাখবেন, এই সময়টাই অবসাদে ভোগা মানুষটির আপনাকে সবথেকে বেশি প্রয়োজন৷ ধৈর্য ধরে তাঁদের কথা শুনুন, তাঁদের উপরে বিরক্ত হয়ে চিৎকার করবেন না বা কটূ কথা শোনাবেন না৷ অবশ্যই তাঁদেরকে একজন মনোবিদের কাছে নিয়ে যান৷

কোনও সময় জীবন শেষ করে দেওয়ার কথা ভাববেন না৷ মনে রাখবেন, আপনাকে চেষ্টা চালিয়ে যেতেই হবে৷ আত্মহত্যার কথা মাথায় এলে পরিবার, বন্ধুদের তা জানান৷ শুধু তাই নয়, একজন মনোবিদের পরামর্শ নিন৷

Related Articles  ঈদের সময় অনলাইন থেকে যে সকল জিনিস কিনলে ঠকবেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *